শ্রদ্ধা - ভক্তি - বিশ্বাস এর অটুট বন্ধনে আজ ও প্রত্যহ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পূজিত হন শ্যামসুন্দর এর হাতে। অভিজিৎ হাজরা, আমতা, হাওড়া :- এক শ্যামা কে শ্রদ্ধা - ভক্তি - বিশ্বাস এর অটুট বন্ধনে আজ ও প্রত্যহ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় কে পূজা করে দিন এর কাজ শুরু করেন শ্যামসুন্দর সাঁতরা। ভারতবর্ষ ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা প্রাপ্তি হওয়ার পর এই রাজ্যে বিধান সভা (১৯৫২) নির্বাচনের ৭৪ টা বছর ভারতীয় জনতা পার্টি (বি জে পি) ক্ষমতায় আসে নি। স্বাধীনতা প্রাপ্তির ৭৯ বছর পর এই প্রথম রাজ্যে বি জে পি সরকার গঠন করেছে। এই রাজ্যে বি জে পি কে ক্ষমতায় আনার পিছনে বর্ষীয়ান জনসংঘ ,আর এস এস, জনতা পার্টি (বি জে পি) - র নেতা -নেত্রী, কর্মী -সমর্থকদের অবদান অনস্বীকার্য। তাদের আত্মত্যাগ,আত্নবলিদান ভোলার নয়। বিশেষ করে এই রাজ্যে বাম আমলে বি জে পি কর্মীদের উপর অত্যাচার,বি জে পি কর্মীদের দাঁতে দাঁত কামড়ে লড়াই - তৃণমূল কংগ্রেস আমলে বি জে পি কর্মীদের উপর অকথ্য নির্যাতন, হুমকি, অত্যাচার,ঘর ছাড়া করা,ঘর-বাড়ি ভাঙচুর করা, মেরে ফেলার ঘটনা বি জে পি - র রাজ্য নেতৃত্ব, কর্মী - সমর্থকেরা ভোলে নি। এবার তার ফল ও মিলেছে। এবার রাজ্যে নতুন সরকার।এই সরকার জনসংঘ -র প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এর জীবন ও অবদান বিশেষ ভাবে তুলে ধরছে।রাজ্যে বি জে পি সরকার ক্ষমতায় আসার মাত্র সারে তিন মাসের মধ্যেই একগুচ্ছ নতুন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালু করেছে। সেই সাফল্য এবং দৃষ্টিভঙ্গিকেই তুলে ধরার পাশাপাশি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও অবদানকে গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরা হচ্ছে। গ্ৰামীণ হাওড়া জেলার আমতা বিধান তথা আমতা থানার কুশবেড়িয়া- তাজপুর সহ সন্নিহিত এলাকার জনগণের কাছে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় একটা আবেগের নাম।বি জে পি কর্মীদের দাঁতে দাঁত কামড়ে অত্যাচার সহ্য করার কথা ভোলে নি শ্যামসুন্দর সাঁতরা।৭৯ বছর বয়সী শ্যামসুন্দর সাঁতরা আজ ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় কে শ্রদ্ধা - ভক্তি- বিশ্বাস এর অটুট বন্ধনে প্রত্যহ সকালে স্নান সেরে শ্বেত শুভ্র বস্ত্রে মালা, ফুল,ধূপ সহযোগে পূজা করে দিনের কাজ শুরু করেন। তাঁর মা বাবার ফটোর সঙ্গে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ফটো পাশাপাশি রেখে পূজা করেন। গ্ৰামীণ হাওড়া জেলার কুশবেড়িয়া গ্ৰাম পঞ্চায়েতের পানশিলা গ্ৰামে ১৯৪৭ সালের ১০ ই এপ্রিল (২৭ চৈত্র ১৩৫৩) জম্মগ্ৰহণ করেন।বাবা কানাইলাল সাঁতরা,মাতা কমলাবালা দেবী।দ্রারিদ্রের সঙ্গে তিনি লড়াই করেছেন ছোটোবেলা থেকেই। প্রথমে তিনি পানশিলা শীতলচক বোর্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। তারপর বাইনান বামনদাস স্কুলে সপ্তম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। তারপর আর্থিক দ্রারিদ্রের কারণে পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। সেই সময় যোগাযোগ হয় কুশবেড়িয়া নিবাসী পল্লীপ্রাণ জনদরদী, সমাজসেবী আখ্যাত শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এর শিষ্য প্রসাদ চক্রবর্তীর কাছের সঙ্গী জনসংঘ - র কর্মী নন্দলাল বেরা - র সঙ্গে। পন্ডিত গঙ্গাগোবিন্দ্র রায়ের শিক্ষায় স্বদেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ,যুবনায়ক স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শে অনুপ্রাণিত ভারত কেশরী ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে গভীর প্রত্যয়ী,নব্য আইনজীবী সৌম্যকান্তি দেবদূত সম ভাবীকালের কান্ডারী,সুবাগ্মী প্রসাদ চক্রবর্তী তাঁরই সেবা কর্মের সূতিকা গৃহের ' আর্তত্রাণ শিবির ' চালু করলেন তাজপুর গ্ৰামে।পরে ' বন্যাত্রাণ শিবির - ১৯৫৯ সালের বিধ্বংসী বন্যায় ' জাতীয় ত্রাণ শিবির ' ,১৯৬৬ সালে সংস্থার কার্যালয় হিসেবে নামকরণ হয় " শ্যামাপ্রসাদ সাংস্কৃতিক শিক্ষণ শিবির " । বর্তমানে কর্মসাধনার তীর্থভূমি সেবাব্রতী সংগঠন " শ্যামাপ্রসাদ ইনস্টিটিউট অব কালচার " ( এস পি ক) । প্রসাদ চক্রবর্তীর সঙ্গে শ্যামসুন্দর সাঁতরার পারিবারিক অর্থনৈতিক অবস্থার কথা বর্ণনা করে তাঁর পড়ার অদম্য ইচ্ছার কথা জানালে, প্রসাদ চক্রবর্তী শ্যামসুন্দর কে তাজপুরে শিক্ষণ শিবিরে সম্পূর্ণ নিঃখরচায় থেকে শিক্ষার জন্য সমস্ত খরচ শিবির বহন করবে বলে জানায়। এরপরই শ্যামসুন্দর সাঁতরা তাজপুর শিবিরে থেকেই অষ্টম শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত সোনামুই ফতেসিং নাহার বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। পড়াশোনার সমস্ত খরচই শিবির বহন করে। পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে পারিবারিক আর্থিক সংকট দূর করার জন্য কীর্ত্তন দলে যোগদান করেন। দলে যোগদান করার পর থেকে তিনি নিরামিষ আহার করতে থাকেন।আজ পর্যন্ত তিনি নিরামিষ আহার করছেন।তিনি হাওড়া জেলা সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলার গ্ৰাম বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গে কীর্ত্তন পরিবেশন করেছেন।তাজপুরের শিবিরে থাকাকালীন সময়ে শ্যামসুন্দর সাঁতরা প্রসাদ চক্রবর্তী ও অন্যান্য ব্যক্তিবর্গদের মাধ্যমে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এর জীবনী, কর্মকাণ্ড,আত্নত্যাগ ও স্বদেশ প্রেম, পশ্চিমবঙ্গকে রক্ষার কথা জানতে পারেন।এর পরই তিনি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এর অনুরাগী হয়ে উঠেন। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় কে তাঁর জীবনের পথপ্রদর্শক হিসেবে গ্ৰহণ করেন। পল্লীপ্রাণ জনদরদী প্রসাদ চক্রবর্তীর মাধ্যমে তিনি এলাকার সামাজিক কাজে, সমাজের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ঝাঁপিয়ে পড়েন। প্রসাদ চক্রবর্তীর মাধ্যমে তিনি রাজনীতিতে আসেন।১৯৭১ সালে ' জনসংঘ ' - র , ১৯৮০ সালে বি জে পি - র সদস্য হন। রাজনৈতিক জীবন প্রসঙ্গে শ্যামসুন্দর সাঁতরা বলেন , " ১৯৫৯ সালে পঞ্চায়েত রাজ শুরু হয়েছিল । তখন তিনটি অঞ্চলে " জনসংঘ " পঞ্চায়েত গঠন করছিল ।কুশবেড়িয়া গ্ৰাম পঞ্চায়েতের প্রধান হয়েছিলেন যতীন্দ্রনাথ সামন্ত, তাজপুর গ্ৰাম পঞ্চায়েতের প্রধান হয়েছিলেন অষ্টপদ মাইতি,ঝামটিয়া গ্ৰাম পঞ্চায়েতের প্রধান হয়েছিলেন মহাদেব দেঁড়ে ।এই গ্ৰাম পঞ্চায়েত গুলো গঠিত হয়েছিল পল্লীপ্রাণ জনদরদী প্রসাদ চক্রবর্তীর নেতৃত্বে।১৯৭৭ সালে " জনসংঘ " নির্দল হিসাবে কুশবেড়িয়া এবং তাজপুর গ্ৰাম পঞ্চায়েত গঠন করেন।কুশবেড়িয়া গ্ৰাম পঞ্চায়েতের প্রধান হন কার্তিক সারিকেত, তাজপুর গ্ৰাম পঞ্চায়েতের প্রধান হন আদিত্য মাজী।১৯৯৩ সালে বি জে পি কুশবেড়িয়া গ্ৰাম পঞ্চায়েত গঠন করেন, প্রধান হন নন্দলাল কাঁড়ার।২০১৮ সালে বি জে পি তেগেছিয়া, সারদা,কুশবেড়িয়া গ্ৰাম পঞ্চায়েতে ১ টি করে আসনে জয়ী হয়েছিল। তিনি নিজে২০২৩ সালে সারদা গ্ৰাম পঞ্চায়েতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হয়েছিলেন। শ্যামসুন্দর সাঁতরার রাজনৈতিক দল বলতে প্রথম থেকেই " জনসংঘ " পরে বি জে পি - র আদর্শকে সম্বল করে দিন যাপন করছেন।বাম আমলে ও পানশিলা বি জে পি - র শক্ত ঘাঁটি ছিল।আজ ও তা অব্যাহত। শ্যামসুন্দর সাঁতরা বলেন, " ভারতের রাজনৈতিক,শিক্ষা ব্যবস্থা ও সামাজিক ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তিনি ছিলেন একাধারে শিক্ষাবিদ,আইনজ্ঞ, দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক,দক্ষ সংগঠক এবং অবিস্মরণীয় দেশপ্রেমিক। দেশের ঐক্য ও অখন্ডতা রক্ষার সংগ্ৰামে তাঁর অবদান ভারতীয় ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। তাঁর জীবনাদর্শ আজ ও সমগ্ৰ দেশবাসীকে দেশপ্রেম ও আত্নত্যাগ ও কর্তব্যনিষ্ঠার অনুপ্রেরণা জোগায়। দেশের ঐক্য, অখন্ডতা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য তাঁর আত্নত্যাগ ভারতবাসীর কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শ, দেশপ্রেম, আত্নত্যাগ এবং দৃঢ়চেতা নেতৃত্ব আজ ও নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে। ভারতবর্ষের ইতিহাসে তিনি কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, বরং জাতীয় চেতনা ও আত্নমর্যাদার এক উজ্জ্বল প্রতীক।তাই যথাথই বলা যায়, মানুষ মরে যায়, কিন্তু মহান আদর্শ কখনই মরে না। আমার মতো পশ্চিমবাংলার মানুষের কাছে তিনিই ভগবান। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় না থাকলে, পশ্চিমবাংলা হতো না। আমার কাছে তিনি আমার জম্মভিটার জনক।তাই প্রত্যহ সকালে স্নান সেরে শ্বেত শুভ্র বস্ত্রে আমার মা - বাবার প্রতিকৃতির পাশে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এর প্রতিকৃতি রেখে মালা, ফুল, ধূপ সহযোগে এক ঘন্টা পূজা করে দিনের কাজ শুরু করি " । তিনি এও বলেন," শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বাংলাকে গড়ার যে স্বপ্ন দেখেছিলেন,যা তিনি করে যেতে পারেন নি, যে স্বপ্ন তাঁর অপূর্ণ থেকে গেছে, বর্তমানে এ রাজ্যের শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বি জে পি) শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এর সেই স্বপ্নের পশ্চিমবাংলা গড়ে তুলবেই তুলবে বলে আমি দৃঢ় আত্নবিশ্বাসী " ।