পাতকুয়োতে দু ' দিন বন্দি থেকে মুক্তি পেয়ে মায়ের কোলে ফিরে গেলো বনবিড়াল
6:28 PM
0
পাতকুয়োতে দু ' দিন বন্দি থেকে মুক্তি পেয়ে মায়ের কোলে ফিরে গেলো বনবিড়াল অভিজিৎ হাজরা, আমতা, হাওড়া :- একটি বনবিড়াল (জাঙ্গেল ক্যাট) এর শাবক দু ' দিন পাতকুয়োতে জল - কাদায় বন্দি থাকার পর মুক্তি পেল এলাকার এক ব্যক্তি এবং এক পরিবেশ কর্মী দম্পতির সহায়তায়। মুমুর্ষু বনবিড়ালের শাবককে সেবা - শুশ্রুষা করে সুস্থ করে তুললেন গৃহবধূ তাহেরা ইয়াসমিন। শাবকটি সুস্থ হওয়ার পর পরিবেশ কর্মীরা তাকে তাঁর মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিলেন। এই ঘটনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সাক্ষী থাকলো গ্ৰামীণ হাওড়া জেলার জয়পুর থানা তথা আমতা ২ নং পঞ্চায়েত সমিতির অন্তর্গত ভাতেঘরি গ্ৰামের বাসিন্দারা। পরিবেশ কর্মী , দম্পতির সহায়তায় সুস্থ হয়ে ওঠা বনবিড়াল এর শাবককে তাঁর মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরে উচ্ছসিত দম্পতি, পরিবেশ কর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারা। এই ঘটনা প্রসঙ্গে জানা যায়, জয়পুর থানা তথা আমতা ২ নং গ্ৰাম পঞ্চায়েতের অন্তর্ভুক্ত ভাতেঘরি গ্ৰামে একটি গ্যাসের অফিসের পাতকুয়োর ফাঁক গলে কোনো ভাবে পড়ে যায় একটি বনবিড়াল এর শাবক। পাতকুয়োতে পড়ে গিয়ে শাবকটি চিৎকার করতে থাকে। একদিন হঠাৎই শাবকটির চিৎকার শুনতে পান গ্যাস অফিসের কর্মী চিত্তরঞ্জন প্রামাণিক। কিন্তু চিৎকারটি কোথা থেকে আসছে প্রথমে তিনি বুঝে উঠতে পারছিলেন না। চিৎকারের উৎস স্থল অনেক খোঁজাখুঁজি করে উৎস স্থল খুঁজে পেয়ে , পাতকুয়োর ঢাকনা সরিয়ে বেশ কিছুক্ষণ চেষ্টা করে পাতকুয়ো থেকে বনবিড়াল এর শাবককে উপরে তুলে আনেন।এর পরই তিনি হাওড়া জেলা যৌথ পরিবেশ মঞ্চ - র আমতা ইউনিটের কো - অর্ডিনেটর দীপঙ্কর পোড়েল কে ঘটনাটি জানান।ঘটনাটি শুনে দীপঙ্কর পোড়েল হাওড়া জেলা যৌথ পরিবেশ মঞ্চ - র সাথী সংগঠন ডট ফাউন্ডেশন এর সম্পাদক মইদুল আলিকে ঘটনাটি জানান। মইদুল আলি ঘটনাটি শুনে ভাতেঘরি গ্ৰামে গিয়ে চিত্তরঞ্জন প্রামাণিক এর বাড়ি থেকে বনবিড়াল এর শাবকটিকে উদ্ধার করে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন। বনবিড়াল এর শাবকটি দু ' দিন পাতকুয়োতে জল - কাদায় বন্দি থেকে চিৎকার করার ফলে বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং কাঁপছিলো। মইদুল আলি ও তার সহধর্মিণী তাহেরা ইয়াসমিন বনবিড়াল এর শাবকটিকে কয়েক ঘণ্টা ধরে সেবা শুশ্রূষা করে সুস্থ করে তোলেন। ওনারা শাবকটিকে গরম দুধ খাওয়ান। এরপর বন দফতরের অনুমতি নিয়ে পরিবেশ কর্মীরা বনবিড়াল এর শাবকটিকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগী হন। পরিবেশ কর্মী ও শিক্ষক সায়ন দে, লিয়াকত আলী, মইদুল আলি, দীপঙ্কর পোড়েল যেখান থেকে বনবিড়াল এর শাবকটিকে উদ্ধার করেছিলেন সেখানে মা বনবিড়াল (জঙ্গলক্যাট) এর অস্তিত্ব খুঁজে বের করেন।ওই গ্যাস অফিসের পাশে ঝোপ - জঙ্গলে সন্ধ্যার অন্ধকারে খাঁচার ভিতরে বনবিড়াল এর শাবকটিকে রেখে দূর থেকে নজরদারি করেন পরিবেশ কর্মীরা।বেশ কয়েক ঘণ্টা নজরদারি করার পর পরিবেশ কর্মীরা দেখেন,শাবকটির মা খাঁচার চারপাশে ঘোরাঘুরি করছে। এরপর পরিবেশ কর্মী দীপঙ্কর পোড়েল ঘটনা স্থলে গিয়ে খাঁচার দরজাটি খুলে দেন।অল্প কিছুক্ষণ পর শাবখটির মা ফিরে এসে শাবকটিকে মুখে করে জঙ্গলে ফিরে যায়। পরিবেশ কর্মী ও শিক্ষক সায়ন দে বলেন, ' বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এই রকম পুনর্বাসন খুবই সার্থক ও তাৎপর্যপূর্ণ ' । হাওড়া জেলা যৌথ পরিবেশ মঞ্চ - র আমতা ইউনিট এর কো - অর্ডিনেটর দীপঙ্কর পোড়েল বলেন, ' বনবিড়াল শাবককে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার নজীর এর আগে নেই ' ।
