বিশেষ প্রতিবেদন
###########
সেন্ট্রাল লখনউ সার্বজনীন দুর্গাপুজো,
বিশ্বাস, ঐতিহ্য ও একতার ৩৬ বছর*
জয়ন্ত ভট্টাচার্য * লখনউ
১৯৯১ সালে একটি ছোট্ট কমিউনিটির উদযাপন হিসেবে যা শুরু হয়েছিল, গত ৩৬ বছরে তা সেন্ট্রাল লখনউ-এর বহু পরিবারের কাছে প্রিয় ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। এবছর সেন্ট্রাল লখনউ সার্বজনীন দুর্গাপুজো সমিতি, অর্থাৎ সি এল ডি পি এস, তাদের ৩৬তম দুর্গাপুজো উদযাপন করতে চলেছে। এই ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে প্রবীণদের নিষ্ঠা, ভক্তি ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায়।
যারা সি এল ডি পি এস-এর পুজোর সঙ্গে বড় হয়েছেন, তাদের কাছে এই পুজো শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়। এটি শৈশবের স্মৃতির ভাণ্ডার — প্যান্ডেলে ঘোরা, সন্ধ্যার আরতি, ধুনুচি নাচ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ভোগ আর পরিবার-বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো অসংখ্য মুহূর্ত।
*উদযাপনের দিনক্ষণ:*
২০২৬ সালের ১৬ অক্টোবর থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত, স্থানীয় রাজেন্দ্র নগরের সোহনলাল বালিকা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। ছয় দিনের এই উৎসবে থাকবে ঐতিহ্যবাহী রীতি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কমিউনিটির নানা আয়োজন।
*পুজোর সূচি:*
- *পঞ্চমী - ১৫ অক্টোবর:* প্রতিমা আগমন, প্যান্ডেলে বরণ।
- *ষষ্ঠী - ১৬ অক্টোবর:* বোধন ও কল্পারম্ভ।
- *মহাসপ্তমী - ১৭ ও ১৮ অক্টোবর:* নবপত্রিকা স্নান, সপ্তমী পুজো, পুষ্পাঞ্জলি, ভোগ আরতি, উদ্বোধন, সন্ধ্যারতি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
- *মহাঅষ্টমী - ১৯ অক্টোবর:* অষ্টমী পুজো, পুষ্পাঞ্জলি, সন্ধিপুজো, ভোগ আরতি, মহাআরতি ও সাংস্কৃতিক রাত।
- *মহানবমী - ২০ অক্টোবর:* নবমী পুজো, পুষ্পাঞ্জলি, কুমারী পুজো, শান্তি হোম, ভোগ আরতি, মহানবমীর আরতি ও অর্কেস্ট্রা নাইট।
- *দশমী - ২১ অক্টোবর:* দর্পণ বিসর্জন, মায়ের পা দেখা, বরণ, সিঁদুর খেলা ও প্রসাদ বিতরণ। দুপুর ২টোয় বিসর্জনের শোভাযাত্রা, সন্ধ্যায় শান্তিজল।
- *কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো - ২৫ অক্টোবর:* পুজো, হোম ও প্রসাদ বিতরণ।
এবারের বিশেষ আকর্ষণ হল বসিয়ে ভোগ বিতরণের ব্যবস্থা। ভক্ত ও এলাকার মানুষজন একসঙ্গে বসে ঐতিহ্যবাহী পরিবেশে ভোগ গ্রহণ করতে পারবেন। এছাড়া সন্ধ্যারতির পর সকলের জন্য থাকবে শীতল ভোগ — সি এল ডি পি এস-এর ভাগ করে নেওয়ার চেতনাকেই বজায় রাখবে এটি।
পুজোয় থাকবে ধুনুচি নাচ, শঙ্খধ্বনি, সন্ধ্যারতি, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, শিশুদের অনুষ্ঠান ও কমিউনিটি মিলনমেলা। সব বয়সের ভক্ত ও পরিবারের জন্য থাকবে আলাদা আয়োজন।
সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই সি এল ডি পি এস এনজিও-র শিশুদের জন্য আয়োজন করছে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। অংশগ্রহণকারীদের পুরস্কৃতও করা হবে। পাশাপাশি এলাকার ই ডব্লিউ এস পরিবারের শিশুরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে, নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরার মঞ্চ পাবে।
আজ তরুণ প্রজন্মই ধীরে ধীরে বাবা-কাকাদের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিচ্ছে। তাদের কাছে এটি শুধু বছরে একবারের অনুষ্ঠান সামলানো নয়, এটি একটি ঐতিহ্যকে বোঝা ও রক্ষা করা।
"ছোটবেলা থেকে দেখেছি বাবা-কাকারা কত সময়, শ্রম আর ভালোবাসা দিয়ে পুজো করতেন। আজ আমরা সেই দায়িত্ব এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই" — সিএলডিপিএস-এর তরুণ সদস্যদের এটাই কথা।
আয়োজকদের বিশ্বাস, সময় বদলেছে ঠিকই, কিন্তু সিএলডিপিএস-এর মূল চেতনা একই আছে — ভক্তিতে ও একতার বন্ধনে মানুষের একসঙ্গে মিলন।
৩৬ বছরে পা দিয়ে এটি শুধু আরেকটি দুর্গাপুজোর উদযাপন নয়। এটি ৩৬ বছরের স্মৃতি, সম্পর্ক, বিশ্বাস ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার উদযাপন।
প্রবীণদের হাত ধরে যে ঐতিহ্য গড়ে উঠেছিল, আজ নতুন প্রজন্মই তার রক্ষক। তাদের হাত থেকেই এগিয়ে যাবে সিএলডিপিএস।
৩৬ বছর পেরিয়েছে, কিন্তু চেতনা একই আছে। ঐতিহ্য চলছে — তাদের হাত থেকে আমাদের হাতে, এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে।
-