মাটির নিচের অদ্ভুত দুনিয়া: সঙ্গ্মী উদ্ভিদের পারস্পরিক মিতালি
বাগান করার সময় বেশিরভাগ মানুষই মাটির ওপরের দৃশ্যমান সৌন্দর্য অর্থাৎ ফুলের রকমারি রঙ, পাতার আকার আর গাছের উচ্চতা নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকেন। অথচ মাটির গভীরে শিকড়গুলোর নিচে লুকিয়ে রয়েছে এক জটিল ও সহযোগিতাপূর্ণ বাস্তুতন্ত্র। সেখানে গাছগুলো তাদের মাটির নিচের রাসায়নিক সংকেত এবং ছত্রাকের যৌথ জালের মাধ্যমে একে অপরকে সক্রিয়ভাবে সহায়তা ও সুরক্ষা দিয়ে থাকে।
এই প্রাকৃতিক সম্পর্কগুলোকে কাজে লাগিয়ে কোনো কৃত্রিম রাসায়নিক ছাড়াই বাগানের স্বাস্থ্য ভালো রাখাকেই বলা হয় কম্পানিয়ন প্লান্টিং বা সঙ্গী উদ্ভিদ চাষ। উদাহরণস্বরূপ, তুলসী বা গাঁদার মতো সুগন্ধি ভেষজ উদ্ভিদ মাটি ও বাতাসে এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান ছড়ায় যা বাগানের সাধারণ ক্ষতিকারক কীটপতঙ্গকে দূরে রাখে এবং উপকারী পরাগযোগকারী পোকাদের আকৃষ্ট করে। একইভাবে, নাইট্রোজেন সংবদ্ধকারী শিম জাতীয় গাছের সাথে টমেটোর মতো বেশি পুষ্টি শোষণকারী গাছ একসাথে লাগালে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ পুষ্টির আদান-প্রদান ঘটে। বাগানকে আলাদা আলাদা গাছের সমষ্টি হিসেবে না দেখে বরং একটি পরষ্পর সংযুক্ত ভূগর্ভস্থ সমাজ হিসেবে দেখলে মালীরা অনেক বেশি প্রাণবন্ত ও টেকসই বাস্তুতন্ত্র গড়ে তুলতে পারেন।
