বিধান মার্কেটে এক বুক শূন্যতা, অভিষেকের মৃত্যুতে স্তব্ধ গোটা বাজার
শিলিগুড়ি
বিধান মার্কেটে এক বুক শূন্যতা! সকাল থেকেই থমথমে পরিবেশ, অভিষেকের মৃত্যুতে শোকের ছায়া
সকাল থেকেই যেন বদলে গিয়েছে চেনা বিধান মার্কেটের ছবি। প্রতিদিনের ব্যস্ততা, দোকানপাটের কোলাহল, ক্রেতা-বিক্রেতার আনাগোনা—সবকিছুর মাঝেই আজ অনুভূত হচ্ছে এক গভীর শূন্যতা। যেন গোটা বিধান মার্কেটকে গ্রাস করেছে এক বুক নীরবতা। অভিষেক সাহার অকালমৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে এলাকার মানুষজন।
জানা গিয়েছে, গতকাল রাত প্রায় ৮টা নাগাদ কার্শিয়াংয়ের রোহিণীর অদূরে একটি বিলাসবহুল গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। তৎপরতার সঙ্গে পাঁচজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও প্রথমে একজন নিখোঁজ ছিলেন। পরে দীর্ঘ তল্লাশির পর তাকেও উদ্ধার করা হয়।
আহতদের ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা অভিষেক সাহাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তাঁর মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই শোকের ছায়া নেমে আসে বিধান মার্কেট জুড়ে।
অভিষেক সাহা ছিলেন বিধান মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বাপি সাহার ছেলে। ফলে এই মৃত্যুর ঘটনা শুধুমাত্র একটি পরিবারের কাছেই নয়, গোটা বিধান মার্কেটের ব্যবসায়ী মহলের কাছেই এক অপূরণীয় ক্ষতি।
যে বিধান মার্কেট প্রতিদিন সকাল থেকেই ব্যস্ততায় মুখর হয়ে ওঠে, সেই বাজারেই আজ বারবার ফিরে আসছে অভিষেকের স্মৃতি। পরিচিত মুখটির অকাল চলে যাওয়া যেন কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না সহকর্মী, ব্যবসায়ী ও পরিচিতরা।
কীভাবে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটল, গাড়িটি কী কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ল এবং দুর্ঘটনার পিছনে অন্য কোনও কারণ ছিল কি না—তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
একটি দুর্ঘটনা, এক তরুণ প্রাণের অকালপ্রয়াণ
আর তার রেশে আজ নিস্তব্ধ বিধান মার্কেট। ব্যস্ত বাজারের বুকজুড়ে শুধু শোক আর একটাই প্রশ্ন এভাবে কেন চলে যেতে হল অভিষেককে?