দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ফুটবলে নবজাগরণ!টাইব্রেকারে থাইল্যান্ডকে হারিয়ে ইতিহাস ইন্দোনেশিয়ার
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ফুটবলে লেখা হল এক নতুন ইতিহাস! প্রথমবারের মতো FIFA ASEAN Cup-এর চ্যাম্পিয়ন ইন্দোনেশিয়া। জাকার্তার গ্যালোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে মহাকাব্যিক ফাইনালে থাইল্যান্ডকে পেনাল্টি শুটআউটে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথম আসরের মুকুট নিজেদের করে নিল ‘গারুদা’ বাহিনী।
৯০ মিনিটে ম্যাচের ফল ছিল ১-১। ৮৪ মিনিটে ডিন জেমসের গোলে এগিয়ে যায় ইন্দোনেশিয়া। মাত্র তিন মিনিট পর ইকলাস স্যানরনের গোলে সমতা ফেরায় থাইল্যান্ড। এরপর অতিরিক্ত সময়ে আরও একবার নাটকীয় মোড় নেয় ম্যাচ। ১১১ মিনিটে পিয়ারাদল চামরাসামি গোল করে থাইল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। কিন্তু হার মানেনি ইন্দোনেশিয়া। ১১৬ মিনিটে এলকান বাগগটের দুর্দান্ত গোলে আবারও সমতায় ফেরে ইন্দোনেশিয়া। ১২০ মিনিট শেষে স্কোর ২-২।
ইন্দোনেশিয়ার হয়ে কেভিন ডিক্স, ডিন জেমস, এলকান বাগগট ও শেইন পাট্টিনামা চারজনই নিখুঁতভাবে বল জালে জড়ান। অন্যদিকে থাইল্যান্ডের সারাচ ইয়ুয়েনের শট পোস্টে লাগে এবং ন্যাট্টাপং সায়রিয়ার পেনাল্টি দুর্দান্তভাবে রুখে দেন ইন্দোনেশিয়ার গোলরক্ষক এমিল অডেরো। শেষ পর্যন্ত ৪-২ পেনাল্টি জয়ে ট্রফি ওঠে ইন্দোনেশিয়ার হাতে।
ইন্দোনেশিয়ার ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। FIFA ASEAN Cup-এর প্রথম চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ইতিহাসে নাম লিখিয়ে দিল গারুদা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ঘরের মাঠে হাজার হাজার সমর্থকের সামনে এল কাঙ্ক্ষিত আন্তর্জাতিক সাফল্য।
ফাইনালের আগে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ৯-২ গোলের দুর্দান্ত জয় দিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিল ইন্দোনেশিয়া। আর ফাইনালে থাইল্যান্ডের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে ১২০ মিনিটের নাটকীয় লড়াই এবং টাইব্রেকারে হারিয়ে প্রমাণ করল—দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ফুটবলে ইন্দোনেশিয়া এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, বাস্তব শক্তি।