## চৌষট্টি বছরে প্রগতি: আন্ধেরির চিরায়ত দেবীবন্দনা
ঘর থেকে দূরে, ঘরেরই আর এক ঠিকানা
মুম্বইয়ের সাংস্কৃতিক মানচিত্রে বাঙালি হৃদয়ের গভীরে যে কয়েকটি নাম চিরস্থায়ী আসন পেতেছে, আন্ধেরির প্রগতির দুর্গাপূজা তাদের মধ্যে অন্যতম। ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সুপ্রাচীন সার্বজনীন উদ্যাপন ২০২৬ সালে পদার্পণ করছে তার ৬৪তম বর্ষে — এটি নিছক একটি ধর্মীয় আচার নয়, একটি প্রতিষ্ঠান। ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রগতি পশ্চিম উপকূলে বাঙালির প্রাণকে আগলে রেখেছে: ঢাকের সেই আদিম ছন্দ, শিউলি-ধুনোর গন্ধ, সমবেত পুষ্পাঞ্জলির মর্মরধ্বনি, আর ঘরে ফেরার নীরব কবিতা।
এ বছর *শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর থেকে বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬* পর্যন্ত ডি. এন. নগর, আন্ধেরি (পশ্চিম)-এর শ্রীমতী জ্যোৎস্না হর্ষদ সি. ভালিয়া অডিটোরিয়াম, ভালিয়া কলেজ প্রাঙ্গণ আরও একবার ভক্তি, শিল্প ও সম্প্রীতির পীঠস্থানে পরিণত হবে। উৎসবের পরিসমাপ্তি ঘটবে *রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬* শ্রীশ্রী কোজাগরী লক্ষ্মীপূজার মাধ্যমে।
পঞ্জিকা মতে এ বছর দেবীর ঘোটকে আগমন ও নৌকায় গমন — দেবীর এই দিব্য যাত্রা গভীর প্রতীকের ব্যঞ্জনা বহন করে।
### ভক্তিতে গাঁথা এক ঐতিহ্যের ধারা
প্রগতির কথা বলা মানেই ধারাবাহিকতার কথা বলা। সোসাইটিজ রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট, ১৮৬০ এবং বোম্বে পাবলিক ট্রাস্টস অ্যাক্ট, ১৯৫০-এর অধীনে নিবন্ধিত (রেজি. নং. BOM. 226/76 GBBSD) এই সংগঠন নীরব দক্ষতা ও গভীর শ্রদ্ধায় প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মুম্বইবাসীকে পবিত্র তিথি-নক্ষত্রের পথে পরিচালিত করে এসেছে।
২০২৬-২৭ থেকে ২০২৮-২৯ মেয়াদে এর পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন *সভাপতি শ্রীমতী অঞ্জলি ফারিয়া* এবং *সাধারণ সম্পাদক শ্রী প্রদীপ কুমার দে সরকার*। তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন সহ-সভাপতি ড. এস. কে. ব্যানার্জি ও শ্রী শ্রীধর মিশ্র, যুগ্ম সম্পাদক শ্রী বিজয় দত্ত ও শ্রী তপস বসাক, কোষাধ্যক্ষ শ্রী অতনু কে. ভদ্র এবং দশজন নিবেদিতপ্রাণ কার্যকরী সমিতির সদস্য। তাঁদের তত্ত্বাবধানেই প্রতিটি আচার শাস্ত্রীয় নিষ্ঠায় পালিত হয়, আর প্রতিটি অতিথি বরণ করা হয় আন্তরিক উষ্ণতায়।
### পবিত্র নির্ঘণ্ট: দুর্গোৎসব ২০২৬
*মহালয়া — শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬*-এর ভোরের স্তোত্রপাঠের মধ্য দিয়ে সূচনা হবে দেবীর আগমনী বার্তার।
*মহাষষ্ঠী — শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর (২৮ আশ্বিন, ১৪৩৩)*
আনুষ্ঠানিক আহ্বান। সকাল ৮:৩০-এ মহাষষ্ঠী পূজা, সকাল ১০টায় পুষ্পাঞ্জলি। সন্ধ্যায় সন্ধ্যা ৭টায় বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মাধ্যমে দেবীকে জাগ্রত ও আবাহন করা হবে, এবং রাত ৮টায় বিচিত্রা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
*মহাসপ্তমী — শনিবার, ১৭ অক্টোবর (২৯ আশ্বিন, ১৪৩৩)*
পূর্ণ আচার-ঐশ্বর্যের দিন: সকাল ৮টায় মহাসপ্তমী পূজা, সকাল ১০:৩০-এ পুষ্পাঞ্জলি, দুপুর ১২:৪৫-এ ভোগ প্রসাদ এবং সন্ধ্যা ৭টায় আরতি। রাত ৮:৩০-এ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা।
*মহাষ্টমী — রবিবার, ১৮ অক্টোবর (৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩)*
পূজার আধ্যাত্মিক শিখর। সপ্তমীর মতোই নির্ঘণ্ট — সকাল ৮টায় পূজা, ১০:৩০-এ পুষ্পাঞ্জলি, ১২:৪৫-এ ভোগ, সন্ধ্যা ৭টায় আরতি — প্রতিটি মুহূর্ত গভীর ভক্তিতে নিমগ্ন, তারপর সান্ধ্য বিচিত্রানুষ্ঠান।
*মহাষ্টমী / সন্ধিপূজা — সোমবার, ১৯ অক্টোবর (১ পৌষ? না, ১ কার্তিক, ১৪৩৩)*
বিরল ও মাহেন্দ্রক্ষণ। ভোরের নিস্তব্ধতায় সকাল ৫টায় মহাষ্টমী পূজা ও সকাল ৬:৩০-এ পুষ্পাঞ্জলি, যার পরিণতি অতি পবিত্র *সন্ধিপূজায় — সকাল ৭:২৬ থেকে ৮:১৪* — অষ্টমী থেকে নবমীতে উত্তরণের সেই ক্ষণস্থায়ী ৪৮ মিনিট। দুপুর ১:৩০-এ ভোগ প্রসাদ, সন্ধ্যায় আরতি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
*মহানবমী — মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর (২ কার্তিক, ১৪৩৩)*
সকাল ৯টায় মহানবমী পূজা, ১০:৩০-এ পুষ্পাঞ্জলি, দুপুর ১২:৩০-এ ভোগ প্রসাদ এবং দুপুর ১:৪৫-এ হোম (হবন) — বিশ্বকল্যাণে পবিত্র অগ্ন্যাহুতি। সন্ধ্যা ৭টায় আরতির পর শেষ সাংস্কৃতিক রজনী।
*বিজয়া দশমী — বুধবার, ২১ অক্টোবর (৩ কার্তিক, ১৪৩৩)*
বেদনাবিধুর বিদায়। সকাল ৮টায় মহাদশমী পূজা, সকাল ১০টায় দর্পণ বিসর্জন ও দধি কর্মা। অপরাহ্নটি ঐতিহ্য ও ভ্রাতৃত্বের — *দুপুর ২:৪৫ থেকে বিকেল ৪:৪৫ পর্যন্ত সিঁদুর উৎসব (মহিলাদের জন্য)। **বিকেল ৫:৩০-এ জুহু বিচে বিসর্জনের* শোভাযাত্রা, এবং রাত ৮টায় পূজা প্রাঙ্গণে শান্তিজল।
*কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা — রবিবার, ২৫ অক্টোবর (৭ কার্তিক, ১৪৩৩)*
আলোর এই ঋতু পূর্ণতা পাবে সন্ধ্যা ৭টায় কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, রাত ৮:৩০-এ পুষ্পাঞ্জলি ও রাত ৯:১৫-এ ভোগ প্রসাদের মধ্য দিয়ে।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সময় পরিবর্তনশীল।
### সাদর আমন্ত্রণ
প্রগতি আপনাকে সপরিবার ও সবান্ধব উপস্থিতির জন্য সনির্বন্ধ অনুরোধ জানায় — অতিথি হিসেবে নয়, এক যৌথ ঐতিহ্যের অংশীদার হিসেবে। যে শহর কখনও থামে না, সেখানে এই কয়েকটি দিন থামার, প্রার্থনার, একসঙ্গে ভোগ গ্রহণের এবং স্মৃতি রোমন্থনের এক দুর্লভ অবকাশ।
চৌষট্টি বছর ধরে প্রগতি প্রমাণ করে এসেছে — দূরত্ব ভক্তিকে ম্লান করে না, বরং আরও গভীর করে। এই অক্টোবরে আন্ধেরি আরও একবার মুখরিত হবে — “বলো দুর্গা মাঈ কী জয়।”
---
*স্থান:* শ্রীমতী জ্যোৎস্না হর্ষদ সি. ভালিয়া অডিটোরিয়াম, ভালিয়া কলেজ, কসমোপলিটান এডু. সোসাইটি রোড, এস.সি.ডি. বরফিওয়ালা হাই স্কুলের নিকটে, ডি. এন. নগর, আন্ধেরি (পশ্চিম), মুম্বই - ৪০০ ০৫৩।
*যোগাযোগ:* জি-১০২, প্ল্যাটিনাম লাইফ, সমুদ্র দর্শন সিএইচএস, অপ্না বাজারের নিকটে, অফ জে. পি. রোড, ডি. এন. নগর, আন্ধেরি (পশ্চিম), মুম্বই - ৪০০ ০৫৩। সেল: ৯৯২০০ ৬৩৯০০ / ৯৯২০০ ৬৪৯০০। ই-মেল: pragati.andheri@gmail.com | www.pragaticlub.org