Type Here to Get Search Results !

প্রথম ওভারেই ৫/২

প্রথম ওভারেই ৫/২!  ৯ বল বাকি থাকতেই ২৫০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জয়! সাই হোপের বিধ্বংসী শতরানে ভারতের মাটিতে ক্যারিবিয়ান হুংকার! 



Uploaded Image


 ১০ ম্যাচের টানা জয়ের ধারায় দাঁড়ি! সাই হোপ ও শেরফেন রাদারফোর্ডের ব্যাটিং তাণ্ডবে ভারতকে ৬ উইকেটে হারাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ! 

ক্রিকেট যে অনিশ্চয়তার খেলা, তা আরও একবার প্রমাণ করে দিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম ওভারেই দুই উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে মাত্র ৫ রান! সামনে ২৫০ রানের বিশাল লক্ষ্য! এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই হয়তো ভেবেছিলেন, ভারতীয় বোলারদের দাপটে দ্রুত শেষ হয়ে যাবে ক্যারিবিয়ানদের ইনিংস। কিন্তু ম্যাচের চিত্রটা যে এভাবে বদলে যাবে, তা বোধহয় কল্পনাও করতে পারেননি ক্রিকেটপ্রেমীরা!

প্রাথমিক বিপর্যয়কে পিছনে ফেলে ব্যাট হাতে ঝড় তুললেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক সাই হোপ। তাঁর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভারতীয় বোলিং আক্রমণকে ছিন্নভিন্ন করে দিলেন শেরফেন রাদারফোর্ড। দুই ব্যাটারের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের সামনে শেষ পর্যন্ত হার মানতে বাধ্য হল টিম ইন্ডিয়া!


এই ম্যাচের অন্যতম বড় আকর্ষণ ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক সাই হোপের অবিশ্বাস্য ইনিংস। চাপের মুখে দাঁড়িয়ে যেভাবে তিনি দলকে নেতৃত্ব দিলেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে।

 
মাত্র ৪৫ বলেই শতরান পূর্ণ করেন  হোপ। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৬টি চার ও ৯টি বিশাল ছক্কা। অর্থাৎ বাউন্ডারি থেকেই এল ৭৮ রান! ভারতীয় বোলারদের উপর একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে বুঝিয়ে দিলেন, শুরুতে দুটি উইকেট হারালেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের লড়াই শেষ হয়ে যায়নি।

 একজন অধিনায়ক হিসেবে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে দলকে জয়ের দরজায় পৌঁছে দিলেন সাই হোপ। তাঁর এই শতরান ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হয়ে থাকল।



সাই হোপ একদিকে যখন ইনিংসের হাল ধরেছেন, অন্যদিকে তখন ব্যাট হাতে আগুন ঝরিয়েছেন শেরফেন রাদারফোর্ড।


মাত্র ৩৭ বলের ইনিংসে ৮৪ রান করে ভারতীয় বোলিং আক্রমণের উপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেন রাদারফোর্ড। তাঁর আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ও সাই হোপের সঙ্গে দুর্দান্ত বোঝাপড়া ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

দু'জনের চতুর্থ উইকেটে ১২০ রানের জুটি ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে এবং জয়ের সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল করে তোলে। প্রথম ওভারের ৫/২ স্কোরলাইন যে শেষ পর্যন্ত ২৫০ রানের লক্ষ্য তাড়া করার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে না, তা প্রমাণ করে দেন তাঁরা।


প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৪৯ রান তোলে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটি একটি বড় স্কোর। স্বাভাবিকভাবেই এই রান রক্ষা করার জন্য ভারতীয় দলের সামনে ভালো সুযোগ ছিল।

কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটাররা যেন অন্য পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন। শুরুতেই দুই উইকেট পড়ে যাওয়ার পরও তাঁরা রান তোলার গতি কমতে দেননি। সাই হোপ ও রাদারফোর্ডের ব্যাটিং ভারতীয় বোলারদের উপর চাপ বাড়িয়ে দেয়।

শেষ পর্যন্ত ১৮.৩ ওভারেই ৪ উইকেট হারিয়ে ২৫২ রান তুলে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।








টানা ১০ ম্যাচের জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে চলা ভারতীয় দলের কাছে এই হার নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা। বিশেষ করে প্রথম ওভারেই যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৫/২ অবস্থায় চলে যায়, তখন ভারতের জয়ের সম্ভাবনাই প্রবল বলে মনে হচ্ছিল।

কিন্তু ক্রিকেটের সৌন্দর্য এখানেই! ম্যাচ যতক্ষণ না শেষ হচ্ছে, ততক্ষণ কোনও দলকেই জয়ী ধরে নেওয়া যায় না। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সেই কথাই আরও একবার মনে করিয়ে দিল।

সাই হোপের দুরন্ত শতরান, রাদারফোর্ডের বিধ্বংসী ব্যাটিং এবং গোটা দলের লড়াকু মানসিকতা—সব মিলিয়ে ক্যারিবিয়ানরা এমন একটি জয় তুলে নিল, যা দীর্ঘদিন ক্রিকেটপ্রেমীদের আলোচনায় থাকবে।


প্রথম ওভারে জোড়া উইকেট হারিয়েও যে ম্যাচ জেতা সম্ভব, তা দেখিয়ে দিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২৫০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ৯ বল বাকি থাকতেই জয় তুলে নেওয়া নিঃসন্দেহে বড় কৃতিত্ব।

আর এই জয়ের কেন্দ্রে রইলেন সাই হোপ ৪৫ বলে অপরাজিত ১০২ রান, ৬টি চার এবং ৯টি ছক্কা! সঙ্গে রাদারফোর্ডের ৮৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস!

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.